পোস্টগুলি

‘লালন দেহতত্ত্ব’ সমাজে কতটা প্রাসঙ্গিক?

ছবি
  ||রাহেল ইসলাম| | ১৭ অক্টোবর ছিল ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস। ১৮৯০ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় তিনি দেহত্যাগ করেন। তাঁর ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে চলতি বছরের ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব ও মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, সাধক, শিল্পী, গবেষক ও দর্শনার্থীরা সমবেত হন তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ধামে। লালনের গান, সাধুসঙ্গ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও স্মরণ করা হয়েছে বাংলার এই ব্যতিক্রমী সাধককে। কিন্তু এই স্মরণোৎসবের বিষয়েই একটি প্রশ্ন নতুন করে তোলা দরকার: যে মানুষটি ১৩৬ বছর আগে দেহত্যাগ করেছেন, তাঁর দেহ, জীবন ও মানুষ সম্পর্কে চিন্তা আজকের জীবিত মানুষের সমাজে কতটা প্রাসঙ্গিক? আমরা লালনকে স্মরণ করছি, কিন্তু তাঁর প্রশ্নগুলোকে কতটা নিজেদের জীবনে গ্রহণ করছি? তাঁর গান গাইছি, অথচ জাতপাতের বিভাজন থেকে মুক্ত হতে পারছি কি? তাঁর মানবিকতার কথা বলছি, অথচ শ্রমিকের দেহ, নারীর স্বাধীনতা, শিশুর শৈশব কিংবা দরিদ্র মানুষের জীবনের অবকাশ নিয়ে কতটা ভাবছি? তাঁর নামে মেলা বসছে, অথচ আমাদের সমাজে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার সংকট ক...

ওয়াইন্ডস্ক্রিন

ছবি
  ||রুশাইদ আহমেদ|| ওয়াইন্ডস্ক্রিনে ঝাপসা হাওয়ার ঝাপটা। স্যাঁতস্যাঁতে ঘ্রাণ চতুর্দিকে। নৈমিত্তিক যানজট আর দূষণের শহুরে ঝঞ্ঝাট থেমে গেছে তোমার কমলা দেহের গোধূলিতে! প্রহর আসে, প্রহর যায়। হৃদয়ের জমিনে বেড়ে ওঠে স্বপ্ন আর স্পর্শের শেকড়! তুমি আমাকে একটুখানি রং দাও ল্যাভেন্ডার কালারের তোমার ওই শাড়ির মতন। অপলক চেয়ে থাকো আমার নিশ্চুপ ঠোঁটের দিকে। বলো তো, আমি তোমায় কোন কথা বলছি না? অন্তর্যামী হওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব নয়। বক্ষে তোমার সুস্থ হৃৎপিণ্ডের অসুস্থ দুলুনি! তবু, চাইলে তুমি একবার আমার আঙুল ছুঁয়ে দেখতে পারো। আমি কথা দিচ্ছি, তোমাকে আমি কোনো শারদীয় বিকেলের গল্প মনে করাব না!

দক্ষিণ এশিয়ায় কমিউনিজম যে কারণে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে!

ছবি
  নুসরাত নূর ই আফরিন ঋতু | এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে শোষণমুক্ত সমাজ, শ্রমিকের অধিকার ও অর্থনৈতিক সাম্যের প্রতীক ছিল লাল পতাকা। কৃষক শ্রমিকের আন্দোলন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সর্বত্রই বামপন্থী রাজনীতি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছে। তবে, এখন সময়ের সঙ্গে বদলেছে। সাথে বদলেছে রাজনীতির ভাষা, অর্থনীতির ধরন এবং মানুষের আশা-প্রত্যাশাও। এ কারণে, প্রশ্ন উঠছে: সাম্প্রতিক সময়ে কমিউনিজম কি দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমে ক্রমে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে, নাকি নতুন বাস্তবতায় নিজেকে বদলে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এই আদর্শ?  উত্তর খুঁজতে হলে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিকে তাকাতে হবে।ভারতে বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে টানা ৩৪ বছর বামফ্রন্ট শাসন করেছে। এরপর রাজ্যটিতে বাম দলগুলোর নির্বাচনী প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ বিধানসভার নির্বাচনে সিপিআই(এম) শুধুমাত্র ১টি আসন পেয়েছে জোটসহযোগে সর্বমোট ২টি।  তবে কেরালায় ভিন্ন রুপ দেখা যায়।কেরালায় বামদের রাজনীতির সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভারতের সব অঞ্চলে বাম রাজনীতির বাস্তব...

কবিতার জের

ছবি
আসন্ন সময়ের টালমাটাল স্রোত কবে বিস্মৃতির ঋণ করে দেবে শোধ? ২ জীবন দুয়ারে শঙ্কার বাষ্পের হানা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে প্রশ্বাসের ফেনা! ৩ পরাজয়ের আগে শত লালিত স্বপ্ন কেন পায় না আমাদের অসীম যত্ন? ৪ দিগন্তবিস্তৃত হাজারো মেঘেদের পাল গড়ে দেবে বিবেকের জলজ এক হাল! ৫ ঘুমের গহীনে খোয়াবের আচানক সমন ঘুচে দেবে আত্মার সব অবনমন! ৬ বিপন্ন বিশ্বের এই যাপিত জমানায় ভুল কায়া ভেসে ওঠে ভাঙা আয়নায়! ৭ শপথের ভিড়ে সহস্র মিথ্যার লাগাম টেনে ধরার উপায় নেই কোনো আগাম! ৮ কবিরা কাঁদে না কখনো, শুধুই কাঁদায়? বাগানবিলাস জন্মায় গোলকধাঁধায়! ৯ যে রাতে জরুরি ঘুম, সে রাতেই ফের বারেবারে ফিরে আসে কবিতারই জের! ১০ কোনো কোনো দিন তো একটুখানি নিঁদ উড়াতে পারে কবিতাদের জেঁকে বসা জিদ! ১১ ‘ভালোবাসি’ স্লোগানে যখন দুনিয়া দোজখ, তখন বলি, যত্নে রেখো তোমার দুচোখ! ১২ কী আর করার আছে তবু ফের -- কবিতা হতে এসে, হয়ে গেলে শের!

উনো রিভার্স আর বুঁদ হওয়া ঘুমের কাব্য

ছবি
ভূপৃষ্ঠের অন্দরে মৃদু কাঁপুনি। দুলে উঠছে ধুন্ধুমার স্মৃতির দেয়ালেরা। সময় সব হয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ কবিতা। রূপকের বেড়াজালে আবদ্ধ আদিম আমি করিডোর থেকে না ঢুকতে পারছি কক্ষে; আর না পাচ্ছি অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে পালানোর পথ! প্রশ্ন রাখা আমি ছেড়ে দিয়েছি সেই কবেই। সকল প্রশ্নই তো উনো খেলার রিভার্স দানের মতো আমার দিকেই ফিরে আসে। তবু বিপন্ন মায়াজালের মোহে বুঁদ হয়ে আছে ঘুম। আমি এখন রাত্রির চেয়েও নিশ্চুপ। মধ্যরাতে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দরী এক নিদ্রিতার বাসার সামনে দিয়ে ওভারলোডেড ট্রাক সাই সাই করে ছুটে গেলে যেমন শব্দ হয়—অতটুকু শোরগোলও আমার মধ্যে নেই। কোন বাহিনী কোথায়, কীভাবে আগ্রাসন চালালো। মুদ্রাস্ফীতির হার কততে গিয়ে ঠেকলো। লিওনেল কত গোল করলেন। রাজনীতিতে কে ‘হিরো’, কে ‘ভিলেন’ বনলেন… এসব আমার মগজে ঢোকে। হৃৎপিণ্ডে ঢোকে না। অথচ পেটভরে খাওয়া, কারো ঠোঁট ছুঁতে চাওয়া আর হাসতে হাসতে বেঁচেবর্তে থাকার নামই জীবন! তাই আমারও জীবন আছে। আমিও জীবিত তোমাদেরই মাঝে!

ডেসপিক্যাবল ম্যাটার

ছবি
মধ্যরাত। সুনসান আঁধারের জঠরে তোমার অবয়ব কাঁপছে। আর সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ, দৃশ্যের চেয়ে কাল্পনিক, কবিতার চেয়ে নগ্ন সবকিছু আমার হৃদয়কে দোলাচ্ছে। এই বদ্বীপের পায়ের কাছে ভেঙে পড়া সামুদ্রিক ঢেউয়ের গর্জন আমার কবিতাকে চেনে। আমার কবিতাকে চেনে যান্ত্রিক নগরীর জংধরা বাস-ট্রেন, নবাগত মেট্রো। আমার রূপকের বেড়াজালে আটকা ওই গহীন বনের এক হরিণী; যার বিষণ্ন আবেগের জন্যে আমি কখনো কবিতা লিখিনি! আসঙ্গলিপ্সুদের লোলুপ দৃষ্টিও আছে আমার পঙক্তির দিকে। আর অল্পকিছু বুলি হলেই হয়তো হয়ে যাবে তাদের কর্ম সাবাড়! মুটে-মজুর, অনাহারী, উন্মাদ আর কলঙ্কিত মানব-মানবীরা আমার কবিতা পড়ে কি-না, আমি জানি না। এ তল্লাটের দুয়েকজন মাস্টারও নাকি আমার কবিতা পড়েন টেবিলে ক্যাপ, চশমা খুলে রেখে। সেগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তাঁরা দাঁড় করান বিবিধ শব্দার্থের সামনে-পেছনের ব্যঞ্জনাময় অর্থ! অথচ তাঁরা জানেন না, কত লোকেই না তাঁদের নিভৃতে ‘বানচোত’ বলে ডাকে! অভিশাপ দিতে আমার জিভ অতটা অভ্যস্ত নয়! ঠোঁটদ্বয়ও পরিণত হয়েছে সহস্র বৈধ চুমুর জন্যে স্রেফ! সবুজ স্বপনের ভিখারি হওয়াই আমার আজন্মের সাধ! বেজন্মা কুকুরদের ‘ঘেউ’ ধ্বনি গোনায় ধরে কেউ? এসব নিয়ে তুমি একটুও ভে...

আল মাহমুদ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা জরুরি যে কারণে

ছবি
মরহুম কবি আল মাহমুদের নাম বাংলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের শুধু একটি সাদামাটা নাম হিসেবে বিবেচনা করা অমূলক। কেননা, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলা সাহিত্য তথা পদ্যে বাংলাদেশের গ্রামবাংলার চিত্র অঙ্কন কিংবা বাংলার চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতি এবং নর-নারীর সম্পর্ক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তিনি যে স্বকীয় কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন, তা সেই সময়ে অন্য কেউ হতে পারেননি। কিন্তু নানা আলোচনা-সমালোচনার কারণে বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্মের তিন-চার দশক পরে আল মাহমুদ ধীরে ধীরে বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গণে অবহেলিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও মরণোত্তর একুশে পদকসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হলেও তাঁর লেখনীর বৃহৎ পরিসর নিয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গণে আলাপ-আলোচনা, গবেষণা এবং বিশ্লেষণ হয়েছে খুবই নগণ্য মাত্রায়। বিপরীতে, আমাদের দেশের বাঘা বাঘা সাহিত্য সমালোচক ও গবেষকদের একটা বড় অংশকে সর্বদা শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের কর্ম নিয়েই পড়ে থাকতে দেখা গেলেও, তাঁরা কখনো আল মাহমুদের কাজের দিকে সেভাবে আলোকপাত করেননি। সেই আঙ্গিক থেকে আমাদের মনে রাখা দরকার যে, বিংশ শতাব্দীর...